রাজনগরে বিষ খাইয়ে হাঁস নিধন

Moulvibazar hash pic2মৌলভীবাজার দফতর থেকে:
মুক্তকথা, মঙ্গলবার ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বিষ প্রয়োগ করে ৬০ হাজার টাকা মুল্যের দুই’শ হাঁস মেরে ফেলা হয়েছে। ওই হাঁস মারার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরভাগ ইউনিয়নের কেশরপাড়া গ্রামের “কেছরিয়া বন্দ” এলাকায়।

জানা যায়, গত সোমবার সকালে প্রতিদিনের মত হাঁসের মালিক কেশরপাড়া গ্রামের আসাবুল মিয়া, পার্শ্ববর্তী ডুবায় তার আড়াইশত হাঁস ছেড়ে দেন। বেলা ন’টায় খবর পান হাঁস গুলি মরে জমিতে পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন দুই’শ হাঁস মরা পড়ে আছে। এসময় তিনি ওই যায়গা থেকে বিষ প্রয়োগের “এ্যামকোজিনন” পাউডারের দুটি খালি প্যাকেট পড়ে আছে দেখে সংগ্রহ করেন।

আসাবুল মিয়া জানান, সুনামপুর গ্রামের মুছিম আলীর পুত্র আকাব মিয়ার সাথে পূর্ব বিরোধ আছে। তিনি বলেন, পনেরো দিন আগে আকাবের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হলে সে ‘দেখে নেবো’ বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। ‘একমাত্র সম্বল এসব হাঁস মেরে সে আমাকে নিস্ব করে দিল।’-এ ছিল আসাবুল মিয়ার সকরুণ কান্নায়ভরা অভিব্যক্তি! তবে আকাব মিয়া অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমি নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর জন্য এ কান্ড করা হয়েছে।

এঘটনায় সোমবার দুপুরে আসাবুল রাজনগর থানায় আকাব মিয়া ও তার ভাই জিতু মিয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। রাজনগর থানার এসআই আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছি বিভিন্ন যায়গায় হাঁস মরে পড়ে আছে। তবে তদন্ত করে দেখতে হবে এসব হাঁস রোগ বালাইয়ে মারা গেল নাকি বিষ খেয়ে মরেছে।

Posted in Moulvibazar, News

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সন্মেলন

IMG_6688

মুক্তকথা: লন্ডন, সোমবার ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ শাখার সম্মেলন-২০১৬ অনুষ্ঠিত। ডা. আহমেদ জামান সভাপতি ও নিসার আহমেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।

সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, নৈরাজ্য ও গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবার অঙ্গিকারকে সামনে রেখে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ শাখার ৬ষ্ঠ সন্মেলন গত ২৫শে সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়।

সন্মেলনের উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে ডা. আহমেদ জামানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বৃটিশ কমিউনিস্ট পার্টির স্টিভ জনসন, তুদে পার্টি অব ইরানের ভারথান, ইরাকী কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল, ন্যাপের সভাপতি আব্দুল আজিজ, গণফোরামের গোলাম হোসেন আহবাব, পাকিস্তান আওয়ামী ওয়ার্কার্স পার্টির মুনিব আনোয়ার, তেল গ্যাস রক্ষা কমিটি যুক্তরাজ্যের আহ্বায়ক ডা. মোখলেসুর রহমান মুকুল, মাহমুদ এ রৌপ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যুক্তরাজ্য।

সন্মেলনের কাউন্সিলে ডা. আহমেদ জামানকে সভাপতি ও নিসার আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে নতুন কার্য্য নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। স্কাইপ ভিডিও যোগাযোগের মাধ্যমে সন্মেলনের কাউন্সিল উদ্বোধন করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। উন্মুক্ত অধিবেশনে স্কাইপ ভিডিও যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ও নতুন কমিটির শপথবাক্য পাঠ করান সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

Posted in London, UK, News, Politics

গণমাধ্যম বদলে দিতে পারে সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বকে

thumbnail_Moulvibazar Dc & press pic -1

মৌলভীবাজার দফতর থেকে

মুক্তকথা: সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।।
আধুনিক এই যুগে সমাজ বদলে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। গণমাধ্যম বদলে দিতে পারে সমাজ, রাষ্ট্র তথা বিশ্বকে। যে কোনো সমাজের বড় শক্তি তার সংবাদমাধ্যম। সংবাদ মাধ্যম- সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। বহুল প্রচলিত এ কথাগুলোর পুনরোল্লেখ করে মৌলভীবাজার জেলার নয়া জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটকমুখর জেলা করতে চান মৌলভীবাজারকে।
রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। মৌলভীবাজার জেলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উল্লেখ করে তার এ অভিযাত্রায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের তার পাশে থাকার আহ্বান জানান। মো: তোফায়েল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যম বদলে দিতে পারে সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি বিশ্বকে। যে কোনো সমাজের বড় শক্তি সংবাদমাধ্যম। মৌলভীবাজার জেলার সকল সংবাদকর্মীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা পেলে মৌলভীবাজারকে নবরূপে তুলে ধরতে পারব। সমাজে সংবাদপত্রের ব্যাপক প্রভাব বিবেচনায় সংবাদকর্মীদের কঠোর সতর্কতা ও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ জরুরি বলে মন্তব্য করেন নতুন ডিসি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনারা অবশ্যই প্রশাসনের সমালোচনা করবেন, তবে তা যেন গঠনমূলক হয়।
সভায় আরো বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মোহাম্মদ মাসুকুর রহমান শিকদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আলম খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ফারুক আহমদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ সালাম, সাধারন সম্পাদক এস এম উমেদ আলী, সাংবাদিক বকসী ইকবাল আহমদ, সালেহ এলাহি কুটি, এডভোকেট রাধাপদ দেব সজল, নজরুল ইসলাম মুহিব, আব্দুল হামিদ মাহবুব, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পান্না দত্ত প্রমুখ।

Posted in Moulvibazar, News

এটি অবশ্যই একটি আশাবাদের কথা

corbyn-4-0মুক্তকথা: শনিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।। দু’বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত বিরুধীরদের সকল গোয়েবল্সিয় রটনাকে মিথ্যা প্রমানিত করে দলীয় নেতৃত্বে বিজয়ী হলেন জেরেমি করবিন। ইংল্যান্ডের লিভারপুল শহরে শ্রমিক দলের নির্বাচনী সভা শেষে তার বিজয়ের এই ঘোষণা দেয়া হয়।

তার এই নিরঙ্কুশ বিজয়কে হর্ষোৎফুল্ল চিত্তে স্বাগত জানিয়েছে কয়েক লক্ষ শ্রমিক দলীয় সদস্য ও কর্মী এবং আবাসিক অনাবাসিক, স্থানীয়-অস্থানীয় নির্বিশেষে দেশের নিরীহ কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। করবিন, দলীয় মোট ভোটের ৬১.৮৫ শতাংশ পেয়েছেন আর স্মিথ পেয়েছেন ৩৮.১৫ শতাংশ ভোট। বৃটেনের ইতিহাসে বিশেষ করে শ্রমিক দলের ইতিহাসে করবিনের এই বিজয় দুনিয়ার শ্রমজীবী মানুষের সুদীর্ঘ জীবন সংগ্রামের কালজয়ী এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

পাক-আফগানসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তারিত বিধ্বংসী যুদ্ধ আর হানা-হানির ফলে কয়েক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে দিকবিদিক দৌড়ছে। আশ্রয়হীন এসব মানুষ ইউরোপ, আমেরিক আর অষ্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের সন্ধানে জীবন বাজি রেখে সাগর পাড়ি দিয়ে উঠে আসছে। রক্ষনশীলরা এসব মানুষজনদের আর আশ্রয় দিতে রাজী নয়। আর এই আশ্রয়হীন মানুষের ঢল দেখে তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে গণভোটে অর্থ ঢেলে কাজ করে। ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসলে বৎসরে ২০বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে এসব মিথ্যা গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ভোটের ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে নেয়।

BBwzvqb.img
ফলে, বৃটেন আর শ্রমিকদল এখন এক সংক্রান্তি লগ্নে খুব কঠিন সময় পার করছে। একদিকে অর্থনৈতিক মন্দা যখন নিভু নিভু হয়েও পুরোপুরি নিভছে না, বরং বিশ্বব্যাপী বাড়ছে, ঠিক এই অবস্থায় ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার গণভোট নির্দেশ করবিনের শ্রমিক দলের জন্য এক বড় রকমের সংকট মোকাবেলার সমান হয়ে দাড়াবে নিশ্চয়। গণভোট ও ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার এই সংকট মূলতঃ তৈরী করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রক্ষনশীল দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরুন। গণভোট দেয়ার তার সিদ্ধান্ত ছিল খুবই অপরিনামদর্শী এক বালখিল্যতা। কিন্তু বালখিল্যতা আর অপরিনামদর্শী যা ই হয় না কেনো, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করার খেসারত দিতে হবে করবিনের শ্রমিকদলকে। কারণ নীতিগতভাবে শ্রমিকদল ইউনিয়নে থাকার পক্ষে।


কেমেরুনের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া পুরো রক্ষনশীল দলের ধনবানরা চায় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসতে এবং খুবই তেলেসমাতির মধ্যদিয়ে তারা এ পর্যায়ে বিজয়ী হয়েছে, গণভোট তাদের পক্ষে গিয়েছে। শ্রমিকদলের কেউ ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে চায় এমন কখনই শুনা যায় নি। স্কটল্যান্ডের শ্রমিকদল করবিনের পক্ষে থাকলেও, স্টার্জিয়নের নেতৃত্বাধীন রাজনীতিকরা জানিয়ে দিয়েছেন স্কটল্যান্ড বিষয়ে আর একটি গণভোটের পক্ষে তারা। যুক্তরাজ্য যদি বৃহত্তর ইউনিয়নে থাকতে চায় না তা’হলে স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের এই ছোট্ট ইউনিয়নে থেকে কি লাভ?

অনেকেই ভাবছেন, ভোটে এই একচেটিয়া বিজয়ে করবিন হয়তো অনেকটা কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু না, করবিন পরিক্ষিত শ্রমিক নেতা। সুদীর্ঘদিনের অনুশীলন তাকে এ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক তিনি নন। 

শ্রমিক দলের স্মীথ সমর্থকগন অবশ্য বলেছেন তারা সহোবস্থানের পক্ষে। করবিনের নেতৃত্বে তারা কাজ করে যাবেন। এটি অবশ্যই একটি আশাবাদের কথা।

Posted in Featured, London, UK, News, World

বৌভাতে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং!

মৌলভীবাজার দপ্তর থেকে পাঠানো: শনিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।।
মৌলভীবাজার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একটি বৌভাত অনুষ্ঠানে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল গত ২১শে সেপ্টেম্বর বুধবার দিন দুপুরে। মৌলভীবাজারে রক্তদানকারী সংগঠন রূপান্তর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুজাহিদ উদ্দিনের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে (ওয়ালিমা/বৌভাত) ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক ইমন আহমেদ বলেন, নিজের রক্তের গ্রুপ অনেকেই জানেন না। বিয়ের অনুষ্ঠানে ব্যাপক লোক সমাগম হয়, তাই সবার কল্যাণেই আমাদের এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আসা মৌলভীবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফয়সল আহমদ বলেন, বৌভাত অনুষ্ঠানে ব্লাড গ্রুপিংয়ের মতো প্রয়োজনীয় সেবা দান প্রশংসার দাবি রাখে। এভাবে কল্যাণকর কাজে সবারই এগিয়ে আসা উচিত।

Posted in Moulvibazar, News

অদ্ভুত রহস্যময় আবিস্কার!

2016-08-31-13-03-21মুক্তকথা: শুক্রবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।।  সারা বিশ্বে এ নমুনার আবিস্কার নেই বললেই মনে হয় সঠিক হবে। অদ্ভুত, অস্বাভাবিক আর রহস্যময় এ আবিস্কারগুলো যে কোন মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে শুধু যথেষ্টই নয়, আরো বেশী কিছু। ভাবাই যায় না কি করে, কি দিয়ে মানুষ এসব কাজ করেছে। সে এক রহস্য আজও রয়ে গেছে মানুষের মনে। দুনিয়ার তাবৎ গবেষক আর আবিষ্কারকদের মাথা গুলিয়ে দিয়েছে আধুনিক এই আবিষ্কারগুলো। যে পাওয়ার কথা বলছি, ড. হেনরিক কুশ তার নাম দিয়েছেন- “Ancient European Highways”। ইউরোপের বেশ কিছু এলাকায় বিশেষ করে স্কটল্যান্ড এবং তুর্কীর মত দেশে এসব পাওয়া গেছে। প্রায় ১২,০০০ বছর আগেকার তৈরী। গবেষকদের মাঝে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। কি করে আর কি সব যন্ত্রপাতি দিয়ে এসব কাজ করা হয়েছিল কেউই জানতে পারেননি আজও। তাদের কাছে এসব অসাধারণ কীর্তি অবাক করা বটে। বারো হাজার বছর আগে মানুষের কি এমন কৃৎকৌশল ছিল যে কঠিণ পাথুরে পাহাড় কেটে এসব টানেল বানাবে? আবিষ্কারক আর গবেষকরা লাজওয়াব!

Posted in News, Science and Technology, World

ইতজাজ

শহীদ ইতজাজ হাসান বাংগাশ

।।হারুনূর রশীদ।।
মঙ্গলবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৬

কটি ভিন্ন বিষয় খুঁজতে গিয়ে ‘উইকিপেডিয়া’তে পেলাম দু’বছর আগের সেই শরীর হিম হয়ে যাওয়া ঘটনা। অনেকেরই নিশ্চয়ই খেয়াল আছে আবার অনেকেই হয়তো ভুলেই গেছি। শরীর হিম হয়ে যাওয়া ঠিকই কিন্তু ঘটনার বিবরণ পড়তে গেলে যেকোন জনই স্তম্ভিত না হয়ে পারবে না। আমারও হলো তাই, কিছুক্ষনের জন্য লেপটপ থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে টেবিল পাশের জানালা দিয়ে আকাশের অসীমতার দিকে তাকিয়ে ছিলাম কতক্ষন এখন আর বলতে পারবো না। যখন খেয়ালে ফিরে এলাম তখন আকাশ নীলিমায় আচ্ছন্ন। বুঝতেই পারছিলাম না কি করে মানুষ পরের তরে নিজেকে অবলিলায় মরতে দিতে পারে! অন্যকে বাঁচানো ছাড়া নিজের আর কোন প্রাপ্তি নেই, কেবল নিশ্চিত মৃত্যু ভিন্ন; এমন অবস্থায় জেনে শুনে কোন মানুষ নিজেকে মৃত্যুর হাতে তুলে দেয়? হ্যাঁ আছে, এমন আত্মার মানুষ আছে। এরা মরেও মরে না! এরাই অমৃতের সন্তান! এদেরই বলতে হয় মহামতি আত্মা।

পাকিস্তানের খাইবার পাকতুনখোয়া প্রদেশের হাঙ্গু জেলার ইব্রাহীম জাঁই গ্রাম। মুজাহিদ আলী তার পরিবার নিয়ে ওই গ্রামে বাস করেন। তার দুই ছেলে দুই মেয়ে আর স্ত্রী এই নিয়ে ছিমছাম সংসার। মুজাহিদ রুটি-রুজীর তাগিদে দুবাই থাকেন।

গ্রামের নামেই স্কুল আছে ‘ইব্রাহীম জাঁই’ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। মুজাহিদ আলীর বড় ছেলে ইতজাজ হাসান এ স্কুলের ৯বম শ্রেণীর ছাত্র। এ বয়সের কোমলমতি কিশোর-কিশোরীরা প্রকৃতিজাত কারণেই বিনোদনমুখী কর্মকান্ডের দিকে উৎসাহী হয় বেশী। মুজাহিদ আলীর ছেলে ইতজাজও লেখা-পড়ার চেয়ে খেলা-ধূলা আর বিনোদনী কাজে সময় দেয় বেশী। অনেক সময় দেরীতে আসার কারণে স্কুলে ঢুকতে পারেনা। স্কুলের পুরো সময় বাইরেই থাকতে হয়।

খেলা-ধূলা শেষ করে এক বন্ধুর সাথে গল্প-গোজবে মশগুল হয়ে স্কুলে আসতে গিয়ে এদিনও দেরী হয়ে যায়। আসার পথেই বুঝতে পারে তাদের কাছ দিয়েই যে লোকটি আসছে তার শরীর দেখে কেমন সন্দেহ সন্দেহ লাগছে। কি যেনো সে বয়ে নিয়ে আসছে। লোকটি যখন স্কুলে ঢুকতে যাবে ইতজাজরা দাড়াতে বলে। এতে ওই লোক আরো বেশী তাড়াহুড়া করে স্কুলে ঢুকে যাবার চেষ্টা করে। ইতজাজ দৌড়ে গিয়ে লোকাটাকে ধরে ফেলে। তাকে বললো- স্কুলের ভেতরে গিয়ে তোমাকে বোমা ফাটাতে দেবো না। সাহস থাকে তো তোমার বোমা এখানে ফাটিয়ে দাও! আত্মঘাতি বোমাবাজ যখন বুঝলো যে ছেলেটি তাকে ছাড়বে না, তখনই সে বোমা ফাটিয়ে দেয়। আত্মঘাতির সাথে ইতজাজও শহীদ হয়, হাসপাতালে নেয়ার পর। পরে জানা যায় লোকটি জঙ্গী সন্ত্রাসী দল “লস্কর ই জঙ্গী”র সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের ৬ই জানুয়ারী।

ইতজাজের এই সাহসী ভূমিকার জন্য তাকে ‘সিতারা ই সুজাত’ পদবীতে ভূষিত করে পাকিরা। পদবীর সাথে ৫০লক্ষ রুপি তার পরিবারকে দেয়া হয়। গ্রামের ‘ইব্রাহীম জাঁই’ স্কুলের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘ইতজাজ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন, পুরস্কারে ভূষিত করেছেন ইতজাজকে। সে অনেকই তো এখন হবে। কারণ ইতজাজ আর কোন কালেই ফিরে আসবেনা। 
তাই বলছিলাম ইতজাজরা মরেও অমর হয়ে থাকে। এরা মরেও মরে না! এদেরই বলতে হয় মহামতি আত্মা। তবে হ্যাঁ, এরা কোটিতে এক!
অমৃতের সন্তান তারাই।

Posted in Featured, News, Politics

খাস জমি থাকতে শহরের ভেতরে স্কুলের নিজস্ব জমি কেন?

thumbnail_IMG_6674মুক্তকথা: মঙ্গলবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৬।। মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমি অধিগ্রহন করে সরকারী অফিস নির্মাণের বিপক্ষে লন্ডনে সভা। সভায়, এ নিয়ে মৌলভীবাজারে চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগন এ সভার আয়োজন করেন। সভা অনুষ্ঠিত হয় আজ ২০শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডনের হোয়াইচ্যাপেলের ‘মাইক্রোবিজনেস’ সেন্টারে।

সভায় সকলেরই একই প্রশ্ন যে, প্রয়োজনীয় খাস ভূমি থাকা সত্ত্বে‌ও কোন এক অজানা কারণে সরকারের শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের নেক নজর পড়েছে শতবর্ষী বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমির উপর। এক পর্বের স্কুল, ছাত্র সংখ্যা বেড়ে যা‌ওয়ায় দুই পর্বে চলছে। তাতে‌ও ছাত্র সংকুলান হয় না। আরো দালানের দরকার। দরকার প্রচুর অর্থের। শিক্ষকদের বাসস্থান সংকট তুঙ্গে! কয়েক বছর আগে শিক্ষক বাসস্থান নির্মানের সকল আয়োজন সম্পন্ন হবার পর‌ও কোন এক অজ্ঞাত কারণে বাসস্থান আর হয়নি। এরই মধ্যে ‘স্কুল হোস্টেল’ তত্ত্বাবধায়কের বাসার ভূমির উপর নতুন করে কুনজর পড়েছে সরকারী ‌ওই শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের। সুদূর অতীতের ইংরেজ আমল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসা ‘সুপারিনটেনডেন্ট’ ‌ও ‘এসিসটেন্ট সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার’এর জমিতে ‌ওই শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। যতদূর জানা গেছে জেলা প্রশাসক কিংবা সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, জেলা প্রশাসক ‌ও স্কুল প্রধানের অজ্ঞাতে, এরা কারা এবং কোন শুভ উদ্দেশ্যে এই ভূমিখন্ডে শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের অফিসবাড়ী নির্মাণের ব্যবস্থা করলেন?

এর বিপক্ষে, অবস্থার মোকাবেলায়, আয়োজিত লন্ডনের উক্ত সভায় শীঘ্রই আরো ব্যাপক ভিত্তিতে ব্যাপক  মানুষকে  সম্পৃক্ত করার জন্য জোড়ালো পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন মসুদ আহমদ, সত্যব্রত দাস স্বপন, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, আহাদুজ্জামান কোরেশী দিপু, মোস্তাক আহমদ আসকর, সৈয়দ ইকবাল, মোহাম্মদ মাহফুজ, সৈয়দ সাকেরুজ্জামান, গৌরীশ রায়, শফিকুর রহমান এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট হারুনূর রশিদ।

Posted in Moulvibazar, News, Politics

মনু বাঁধে ভাঙ্গন, ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ

রাজনগরে মনু নদীর বাঁধে ১৫টি ভাঙ্গন, ঝুঁকিতে ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ

।। আব্দুল ওয়াদুদ ।।
রোববার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৬

thumbnail_Monu River4, Rajnagarমৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নে মনু নদীর বাঁধে ১৫ টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে ২০ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে জীবনযাপন করছেন। ভাঙ্গন প্রতিরোধে আগে থেকে ব্যবস্থা গ্রহন না করার কারণে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় দরিদ্র কৃষিজীবী এসব গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানি কমার সাথে সাথে দ্রুত ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত না করা গেলে দুর্ভোগে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।thumbnail_Monu River3, Rajnagar

thumbnail_Monu River2, Rajnagarপানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ঈদের আগের ৩ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বাড়ায় প্রবল স্রোতে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৯টি ও কামারচাক ইউনিয়নের ৬টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামের মনু নদীর পানি নদী তীরবর্তী ফারুক মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত চলে আসে। ভাঙ্গন মোকাবেলায় এই পরিবারের সদস্য মিলে বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ দিয়েছেন। পাশেই বাঁধের আরেকটি স্থানে প্রায় ১২ মিটার ভাঙ্গন দেখা দিলে স্থানীয়রা টিন, বস্তা ও বাঁশ দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন। মনু তীরবর্তী খাস প্রেমনগর গ্রামের ফাজিল মিয়ার বসত ঘরের পাশের একটি স্থানে ২০ ফুটেরও বেশি জায়গা নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। যেকোনো সময় তার বসত ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। টেংরা ইউনিয়নের কোণাগাঁও গ্রামে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার জায়গা পানির আঘাতে ভেঙ্গে গেছে। দুটি স্থানের বাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলেও পানি কমে যাওয়ায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ওই গ্রামের নদী তীরবর্তী দুলাল মিয়ার বাড়িটি ঈদের আগের দিন রাতে নদী থেকে ১৫ মিটার দূরে থাকলেও এখন বাড়িটি নদীতে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
thumbnail_Monu River1, Rajnagarদুলাল মিয়া বলেন, ভাঙ্গন ঠেকাতে মাটি ভর্তি বস্তা ফেলেও কাজ হয়নি। এখন বাড়িটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। পরিবার নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি।
ভোলানগর গ্রামের ফারুক মিয়া (৫০) বলেন, বুধবার রাতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙ্গে বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। বাড়ির সবাই মিলে ভাঙ্গন ঠেকাতে বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ দিয়েছি। ভাঙ্গন আতঙ্কে রাতে ঘুমোতে পারি না।
খাস প্রেমনগর গ্রামের ফাজিল মিয়া (৪০) বলেন, বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপদে আছি। ঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি। ভিটেটুকু নদীতে চলে গেলে কোথায় যাবো এ নিয়ে চিন্তায় রয়েছি।
এদিকে এসব এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী কামারচাক ইউনিয়নের আদমপুর, পূর্ব আদমপুর, পশ্চিম আদমপুর, মালিপাড়া, ভোলানগর, দস্তিদারের চক, বিশালী, পূর্ব মিঠিপুর, পশ্চিম মিঠিপুর ও টেংরা ইউনিয়নের হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু, টগরপুর, কোণাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ সহ ২০ টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। মনু নদীর এই বাঁধের উপর দিয়ে এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। বাঁধের বেশির ভাগ অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
টেংরা ইউপি চেয়ারম্যান টিপু খান বলেন, স্থানীয়দের নিয়ে কাজ করে কোনোমতে ভাঙ্গন ঠেকানো গেছে। ঝুঁকিতে থাকা স্থান সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করলেও তারা ভাঙ্গন প্রতিরোধে আগে থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তারা কিছু মাটি ফেলেই দায় সাড়েন। দ্রুত টেকসই ভাবে বাঁধ মেরামত না করলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রব বলেন, প্রাথমিক ভাবে বস্তায় মাটি ভরে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঁধ মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Posted in Featured, Moulvibazar, News

বনে বাঙ্গালী রাজনৈতিক শরণার্থীদের নিয়ে ঈদ

বনের ‘ইন্টেগ্রেশন হাউজ’এ বাঙ্গালী রাজনৈতিক শরণার্থীদের নিয়ে বিশেষ ঈদ উৎসব
।। আনসার আহমেদ উল্লাহ ।।
রোববার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৬

thumbnail_Eid ul Adha Bonn 1জার্মানির বন নগরীর ডুইসডর্ফ এলাকায় জার্মান-বাংলাদেশ সমিতির ‘হাউজ অফ ইন্টেগ্রেশন’ ভবনে সোমবার, ঠিক বাংলাদেশের মতই ঈদের নামাজের আনন্দ-উপভোগ এবং ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ছোঁয়া ও আমেজ উপভোগ করলেন জার্মান প্রবাসি বাংলাদেশীরা।

সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত ঈদ-উল-আযহা এর জামাতে বন, কোলন, জিগবুর্গ, মেকেনহাইম, অয়েশকির্শেন সহ এর আশেপাশের এলাকা থেকে নতুন পোশাক পরে আতর-সুগন্ধি মেখে হাজির হন শতাধিক বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের প্রবাসী নারী পুরুষ।

ঈদের নামাজ পড়ান সোমালীয় বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত জার্মান মাওলানা শাইখ হোসাইন। আরবি ভাষায় দেওয়া খুতবার জার্মান অনুবাদ করেন হোসাইন আব্দুল হাই। ঈদের নামাজের পরে ধর্মীয় আলোচনায় খতিব হোসাইন ঈদের নামাজ এবং ঈদের উৎসবকে আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য পুরষ্কার হিসেবে এর নানা প্রেক্ষিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে পালিত হয়ে আসছে ঈদুল আযহা। হযরত ইবরাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানি প্রচলিত হয়েছে।

Eid Celebration Bonn 3মাওলানা শাইখ হোসাইন আরো বলেন, পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করাটাই উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য যথাযথভাবে অর্জিত হলে কোরবানি করা সার্থক হয়ে থাকে। এ উৎসবের ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য যেমন রয়েছে, তেমনি পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক নানা কল্যাণকর দিকও রয়েছে। সৌভ্রাতৃত্ব, ঐক্য সংহতি, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা সহানুভূতি প্রকাশের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয়, এই ঈদ।

ঈদুল আযহার শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রত্যেক মুসলমানকে একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য আহ্বান জানান তিনি। ঈদের জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে এবং বিশেষভাবে মুসলমান অভিবাসীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে দোয়া করা হয়।

thumbnail_Eid ul Adha Bonn 2বাঙ্গালী রাজনৈতিক শরণার্থীদের প্রীতিভোজ
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে সোমবার দিনের শেষে ‘হাউজ অফ ইন্টেগ্রেশন’এ আয়োজন করা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে আসা রাজনৈতিক শরণার্থীদের জন্য এক প্রীতিভোজের। ঈদ উৎসবে বাংলাদেশি রাজনৈতিক শরণার্থীদের সাথে অংশ নেন হাউজ অফ ইন্টেগ্রেশনের সদস্য ও আমন্ত্রিত জার্মান অতিথিবৃন্দ।

গণমাধ্যমের সাথে সাক্ষাৎকারে ‘হাউজ অফ ইন্টেগ্রেশন’এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব যুবরাজ তালুকদার জানান, ২০১২ সালে বন নগরীর ডুইসডর্ফ এলাকায় এই শিক্ষাকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে সেখানে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা শুরু করেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ভাইবোনদের জন্য এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি ও মুসলিম শিক্ষা, সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়া এবং মূলধারার জার্মান সমাজের সাথে প্রবাসী ভাইবোনদের একটি যোগসূত্র হিসেবে কাজ করছে এই শিক্ষা কেন্দ্র ও নামাজঘর।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগেও এই এলাকার শরণার্থী শিবিরগুলোতে গিয়ে দেখেছি তাদের থাকা ও খাওয়ার করুণ অবস্থা। বাংলাদেশি রাজনৈতিক শরণার্থীরা জার্মানিতে আসার পর জার্মান খাবার খেতে পারেন না এবং পরিবার ও স্বজনদের ছেড়ে নিদারুণ মানসিক চাপে থাকেন। তাদের জন্য জার্মান সমাজে চলাফেরা করাও কঠিন সমস্যা হয়ে পড়ে, কারণ এখানে তাদের জার্মান ভাষা শেখার জন্য সরকার কোন ব্যবস্থাও করে না এবং কোন অর্থও দেয় না। তাই এখানে আমরা তাদেরকে নিয়ে আজ বাংলাদেশী আমেজে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করেছি। তাদের জন্য জার্মান ভাষা শেখানোসহ জার্মান সমাজের সাথে একীভূত হওয়ার লক্ষ্যে এই শিক্ষাকেন্দ্রে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

জার্মান প্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশী সমাজকর্মী জনাব নুরুল ইসলাম জানান, বন নগরীতে তুর্কি ও আরবের মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি মসজিদ থাকলেও মাতৃভাষায় খুৎবা ও দোয়া করতে পারা এবং দেশি ভাইবোনদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করতে পারবেন সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ঈদের নামাজ পড়তে ছুটে আসেন বাংলাদেশী প্রবাসী ভাই ও বোনেরা।
ঈদের জামাতে উপস্থিত হাউজ অফ ইন্টেগ্রেশন এর অন্যতম সংগঠক মিজ তামান্না তালুকদার বলেন, বাংলা ভাষায় ইমাম সাহেবের বক্তৃতা শোনা এবং বিশেষ করে নারী মুসল্লীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা করার কারনেই এখানে ঈদের নামাজ পড়ে খুবই ভালো লেগেছে।

Posted in Dhaka, Bangladesh, Featured, News

বাংলা

বাংলাদেশের কলকাতা উপদূতাবাস

RAMKRISHNA BHATTACHARYA SANYAL
SATURDAY, 17 SEPTEMBER 2016

14264880_1754778788143745_501346300973237242_nগত পরশু রাতে (১৫/০৯/২০১৬) যথারীতি বিছানায় শুয়ে মোবাইলে একটা বইয়ের পিডিএফ পড়ছিলাম। হঠাৎ – একটা মেসেজ! খুলে দেখি – ভারতে নিযুক্ত আমার ফেসবুক বন্ধু বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাননীয় সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর একটি মেসেজ।

ইংরেজী মেসেজটির তর্জমা করলে দাঁড়ায় – আমি কলকাতায় এসেছি, ওবেরয় গ্র্যান্ডে আছি। আমার ফোন নং দিলাম – আপনার নম্বরটা দিন। একটু দোনোমনো করে – ফোন নংটা দিলাম। তারপরে লিখে দিলাম – আগামীকাল সকালে ফোন করি? তিনি বললেন – আগামীকাল সকাল আটটার সময় আমি বাংলাদেশ সীমান্তে যাবো – বনগাঁয়। আপনি পারলে এখুনি ফোন দিন।
অগত্যা---
বললেন :- আগামীকাল কোলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসে একটা ডিনারের আয়োজন করেছি। আপনার সস্ত্রীক উপস্থিতি চাই।

সত্যি কথা কি – আমি একটু ঘাবড়েই গেলাম। তো তো করে উত্তর গেল আমার থেকে – সে না হয় যাবো, কিন্তু দোতলা হলে আমার পক্ষে উঠতে অসুবিধে।

না , না – আমাদের ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদের ঐ খানে বাসস্থান আর সেটা এক তলায় । জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো বলে, প্রশ্নটা করেই ফেললাম – ড্রেস কোড কিছু আছে কি? জবাব এলো – না না – আপনি যে পোষাকে স্বচ্ছন্দ, সেটা পরেই আসবেন!

রাজী হয়ে গেলাম। রাতেই ঠিক হয়ে গেল- ছেলে আমাকে গাড়ী দেবে, তবে সন্ধে ছয়টায় ওর ব্যাবসা সংক্রান্ত একটা মিটিং থাকায় ওকে সাউথ সিটি মলের কাছে নামিয়ে দিলেই চলবে। এই রকম নিমন্ত্রণ জীবনে পাই নি , তাও আমার জন্মভূমির দেশের রাষ্ট্রগত আমন্ত্রণ। নিয়ম অনুযায়ী – যেখানে দূতাবাস, সেটাই সে দেশের ভূখণ্ড। বিনা পাসপোর্টে সে দেশে যাওয়া যাবে, কোলকাতায় থেকে – এটাই বা কম কি? স্ত্রী বললেন – উপহার কি নেবে?
14344801_1754778594810431_7456871626854698074_n
এসব ব্যাপারে আমার মাথা খোলে না। উনিই সমস্যা তুলে সমাধান দিলেন:- তোমার তিনখানা বই দাও। যাক্! নিশ্চিন্ত। সকালে ফোন খুলেছি কি খুলিনি – উপদূতাবাস থেকে ফোন!

স্যার আমি মাননীয় উপরাষ্ট্রদূতের পিএ বলছি – আপনাদের নাম, ইংরেজীতে, মেল আই ডি আর গাড়ীর নম্বর দিলে বাধিত হই।

একটু পরেই দেখি – আমার মেইল অ্যাড্রেসে নিমন্ত্রণ পত্র। জবাব দেওয়ার আগেই আবার ফোন এলো – পেয়েছেন স্যার? পারলে একটু কনফার্ম করে দিন মেইলটায়। এবারে আলমারি খুলে তন্ন তন্ন করে খোঁজা চললো – চাপড়ঘন্ট আর নাট্যে উপেক্ষিত বইয়ের।

না নেই – একটাও নেই। এমনকি বাংলাদেশ সংস্করণও নেই। খালি – আমার পাওনা এক কপি, নুনেতে ভাতেতে আছে। কুল কুল করে ঘেমে যাচ্ছি। তখন বেলা প্রায় সাড়ে তিনটে। একবার ভাবলাম – সৃষ্টিসুখের সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের আউটলেটে যাই। কিন্তু তা হলে আর সময়ে যাওয়া হবে না।

মরীয়া হয়ে বুকী ঘোষকে ফোন – তুমি কিনছালা না এই বইদুটো?
হ!
আমাকে দেবে?
ক্যান কির লাইগা?
একজনকে উপহার দেবো বই দুটো।
কিন্তু সেই দুগা বইতে তো আপনার সই আসে বিরাট কইরা!

মহা মুশকিল! শেষে ভাবলাম – ওনার কাছে সব কথা খুলেই বলবো।

জ্যাম, ট্র্যাফিকের ঝঞ্ছাট, ছেলেকে গন্তব্য স্থলে নামিয়ে দেওয়া – সব করে যখন পৌঁছলাম – তখন উপদূতাবাসের গেট বন্ধ। বাধ্য হয়ে রিসেপশান ডেস্কে ফোন। দু মিনিটের মধ্যে দরজা খুলে গেল। যিনি গেট খুললেন – তিনি আমার গাড়ীর নাম্বার টা একবার উঁকি দিয়ে দেখলেন। তাকেই জিজ্ঞেস করলাম – ভাইজান, জকি সায়েবের বাসাটা কোই?
দেখিয়ে দিলো।
গাড়ী থামতেই – একজন এগিয়ে এলেন, অভ্যর্থনা জানাতে। পরে জানলাম, তিনি মইনুল কবীর, বরিশালে আদত বাড়ি। উপদূতাবাসের উচ্চ পদস্থ কর্মচারীও বটে। নিয়ে গেলেন – বিশাল বৈঠকখানায়। একটু পরেই ছেলে কোলে করে এলেন জনাব জকি আহাদ। আমি এবারে চিন্তামুক্ত ও স্বচ্ছন্দ হলাম । আর কোনো অফিসিয়াল ব্যাপার আছে বলে মনে হলো না।
14330043_1754778904810400_7691918433632090929_n
ওয়েটার এসে ট্রেতে ঠাণ্ডা জল, জুস, এবং কোলা দিলেন গেলাসে।
গলা শুকিয়ে গেছিল উৎকণ্ঠায় । ভিজিয়ে নিলাম গলা।
গল্প শুরু হলো তাঁর সাথে। সন্দীপে বাড়ী ওনার। লাস্ট পোস্টিং ছিল চিনে।

একটু পরেই এলেন – সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখার্জ্জী, যাঁকে আমরা শঙ্কর নামেই জানি।
তিনি বললেন – আমি ভাই তাড়াতাড়ি চলে যাবো। ভোরে উঠি আমি আর তখনই লেখালেখি করি।

পরিচয় বিনিময় হলো। একে একে অতিথিরা আসতে শুরু করলেন।

এসে গেলেন – মূল নায়ক সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, সস্ত্রীক। সারাদিন কাজ এবং ঘোরাঘুরি করেও মুখে ক্লান্তির লেশমাত্র নেই। পরিচয় হলো স্বাতী ভট্টাচার্যের সাথে। বঙ্গবাসী কলেজের অধ্যাপিকা। মুজতবা সায়েবের ওপর ডক্টরেট করেছেন – এই বাংলায়। থাকেন নাগেরবাজারেই। আড্ডা জমে গেল। বুঝলাম – এখানে আড্ডাই মূল কারণ। বিষয় :- মুজতবা সায়েব।

এলো বিদেশী স্কচ । শঙ্করের সামনে খাবো বলে ইতস্তত করছিলাম – কিন্তু তিনিই সেই ভয়টা ভাঙিয়ে দিলেন। মুজতবা সায়েবকে নিয়ে আলোচনা আর স্কচ খাবেন না, এটা হয় ?

আপনি।
না ভাই আমি খাই না।

তারপর আর পায় কে আমাকে ? শুরু হলো, তাপসের Anarja Tapos ডায়ালগ অনুযায়ী – খাই দে মামা ।

মোয়াজ্জেম সায়েব কত কথা বলতে লাগলেন – তাঁর চাচাকে নিয়ে। চাচা কাহিনীর চাচা হলেন মুজতবা আলী নিজে আর গোলাম মৌলা হলেন - সব ভাইপোর প্রতিভূ । সটকে তিনি শিখিয়েছিলেন জার্মানির কথা। তিনি আমাকে একটা বইও উপহার দিলেন, তাঁর বাবা সৈয়দ মোস্তাফা আলীর লেখা বই – আত্মকথন। বললেন - এই বইতে তাঁর চাচা মুজতবা আলীকে নিয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আমিও সব কথা খুলে বলে – নুনেতে ভাতেতে বইটা দিলাম।
14333574_1754779341477023_3018604530160613988_n
তিনি বললেন – পরের বারে যেন মনে করে চাপড়ঘন্ট আর নাট্যে উপেক্ষিত বইটি দেই। অঙ্গীকার করে এলাম। স্বাতী বললেন – মুজতবা সায়েব মাত্র চারটে উপন্যাস লিখেছিলেন, কিন্তু সেগুলো নিয়ে আলোচনা খুব একটা হয় না।

স্বাতীর গবেষণাটি বই আকারেও বেরোলেও সেটা বই বাজারে আর মেলে না। প্রকাশক তাঁকে সত্ত্ব সংরক্ষণ করতে দেন নি। বিকল্প উপায় খুঁজছেন।
শঙ্কর এই সময়ে বললেন, মুজতবা সায়েব বলেছিলেন, তাঁর টাকা হলে একটা ফাউণ্ডেশন করবেন। এখান থেকে টাকা নিয়ে “দুর্বল” লেখকরা প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে যাবেন। বলাই বাহুল্য- সেটা আর কাজে অনুবাদ হয় নি।

আমাকে বললেন – আপনার প্রকাশকরা কেমন? উত্তর দিলাম – আমাকে বইয়ের জগতে নিয়ে এসেছে রোহণ কুদ্দুস Rohon Kuddus আর পরে অরিজিৎ (Arijit Bhadra) আর অভিষেক ( Avishek Aich)। এরা আছে বলে - মুজতবা ফাউণ্ডেশন হলেও সেখান থেকে কোনো টাকা অন্তত আমার কাজে লাগতো না । আমার পরবর্তী বই কি – সেটা জিজ্ঞেস করলেন। বললাম – রোহন প্রকাশ করছে আমার রিপ্রেজেনটেটিভ থাকা কালীন অভিজ্ঞতার বই। নাম - বেচুবাবু।

শুনে মোয়াজ্জেম সায়েব , মুজতবা সায়েবের ইংলণ্ডের এক বেচুবাবুর টিএ বিল সংক্রান্ত একটা গল্প শোনালেন। শর্ত দিয়েছিলেন – তিনি তখনই বলবেন , যদি আমি প্রতিশ্রুতি দেই এটা আমি লিখবো না।

শর্ত ভেঙেই লিখবো তবে পরের শেষ কিস্তিতে।
****************************

thumbnail_2.......

সাংবাদিকের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন এমি সায়রা মহসিন

thumbnail_Moulvibazar Jela sabgbadik furam  Ifter pic

বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক সৈয়দ কামরুল ইসলাম

thumbnail_6......

ফোরামের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

পুরনো সংখ্যা

এইদেশ

14100506_1016507401804917_1091263898367728061_n Screen Shot 2016-09-03 at 20.31.12 *************************

বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় নিহত

জাপানি নাগরিকদের স্মরণে

AnsarAhmedUllah
পাঠিয়েছেন-আনসার আহমেদ উল্লাহ:

শুক্রবার ১৫ জুলাই ২০১৬: বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জাপানি নাগরিকদের স্মরণে ব্রিটেনের জাপান এমব্যাসিতে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দর শোকবার্তা প্রদান এবং মতবিনিময় করেন । মতবিনিময়কালে বাংলাদেশে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়। জাপান এম্ব্যাসি বাংলাদেশের সাথে তাঁদের ব্যবসায়িক এবং পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আশ্বাস দেয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকে এ শোক বার্তা প্রদান করেন সুলতান মাহমুদ শরীফ সৈয়দ মোজাম্মেল আলী নইমুদ্দিন রিয়াজ আ স ম মিসবা হাবিবুর রহমান হাবীব রবিন পাল জামাল আহমেদ খান

ফিরে দেখা

“যে জিনিষ মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে, আমি তাকে মানি না! ধর্ম এটা করে… আর অর্গানাইজড ধর্ম তো করেই! ঠিক একই কারণে আমি জাত-ও মানি না…।”

*************************

Faiza a bengali bloosm

*************************
13308276_10209251040250990_1387671728542706999_o-সত্যব্রত দাস স্বপন

সাথী নামের মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে পরীক্ষার ফিস দিতে না পারার কষ্টে। এঘটনাটি আমাকে খুবই বিচলিত করেছে। আজ থেকে ৪৩ বছর আগে মেট্রিক পরীক্ষার ফিস দিতে না পারার জন্য আমারও এই পরিস্থিতিতে দাঁড়াতে হয়েছিল। বাবা শয্যাশায়ী, পরিবার চালানোর জন্য উপার্জন করার কেউ ছিলেন না। খুব কষ্টে চলত আমাদের পরিবার। বাবার কাছে চাইতে পারিনি, কারণ আমি জানতাম তিনি হয়তো দিতে পারবেন না, অযথা কষ্ট পাবেন।

আমি তখন আমাদের শহরে সবার কাছে খুবই প্রিয় কিশোর ছিলাম। খেলাঘরের নেতৃস্থানীয় কর্মী, ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী, নাট্যকর্মী , আবৃত্তি এসবের কারণে সবার কাছে খুবই পরিচিত ছিলাম। শহরে আমাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানে থাকতাম, পড়াশুনা করতাম, কোনদিন কোথায় খেতাম, কি খেতাম তার কোন ঠিক ছিল না। তবে দিন ঠিকই চলে যেতো।

পরীক্ষার ফরম পূরণের দিন ঘনিয়ে আসতেই মনটা খুব খারাপ হল। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। কাউকে লজ্জায় বলতেও পারছিলাম না। আমাদের দোকানের সামনেই ছিল মৌলভীবাজারের সেই সময়ের বিখ্যাত 'সুহৃদ ফার্মেসী'। সেই ফার্মেসীর মালিক সুশীল বাবুর সম্ভবত কোন ছেলে সন্তান ছিলেন না। সুভাস বাবু নামে এক সুদর্শন যুবক যাঁকে আমরা সুশীল বাবুর পালক পুত্র হিসেবেই জানতাম। তিনি খুবই সুন্দর কাপড় পড়তেন, খুব স্মার্ট ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে খেলাঘরের চাঁদা আনতে যেতাম। খেলাঘর, ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদের পছন্দ করতেন।

মেট্রিকের ফরম পূরণের শেষদিনের আগেরদিন বিকেলে, উনি আমাকে ডেকে নিয়ে বাবার অসুস্থতার খবর, আমার পড়াশুনার খবর জানতে চাইলেন। আমার বাবার খবর জানালেও পরীক্ষা বিষয়ে কিছু না বলায় একটু ধমক দিয়েই পরীক্ষা বিষয়ে জানতে চাইলেন। জানতে চাইলেন ফরম ফিল আপ হয়েছে কি না। হয়নি, বলতেই রেগেই গেলেন। জানতে চাইলেন কবে ফরম ফিল আপ? বললাম কালই শেষ দিন। খুব রেগে গেলেন, একটু শান্ত হয়ে জানতে চাইলেন কত টাকা লাগবে। জানালাম ১২৫ টাকা। বললেন সকালে এসে নিয়ে যেও এবং ফরম ফিল আপ করে এসে আমাকে জানাবে। সেই সুপুরুষ সুভাস বাবুর দয়ায় আমার ফরম ফিল আপ হয়েছিল, পরীক্ষা দেয়াও হয়েছিল। সাথীর মতো আত্মহত্যা করতে হয়নি।

কতো স্বপনকে, সাথীকে যে এরকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয় প্রতিদিন কে তার হিসাব রাখে, কোন কোন স্বপনের খোঁজ হয়তো সুভাস বাবুরা নেন ,কারো কারো হয়তো সাথীর মতোই ঝরে যেতে হয়। আমাদের দেশটা কবে এরকম হবে যখন এপরিস্থিতিতে আর কাউকে পড়তে হবে না, রাষ্ট্র এর দায়িত্ব নেবে। শিক্ষা শুধু বিত্তবানদের সন্তানদের জন্য হবে না। শিক্ষা সুযোগ হবে না, হবে অধিকার।

*************************

আইএস ঢুকে পড়েছে সর্বত্র

-মার্শা বার্নিকাট

thumbnail_IMG_6241bernicat

হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি

পুরনো কাগজ ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে ২০১৩ সালের মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় শতবর্ষ মিলন মেলার কয়েকটি ছবি পেয়ে সেগুলো আকাঙ্খী পাঠকদের জন্য পত্রস্ত করে দিলাম।

image

শীতের সকাল, কুয়াশা ভেজা মেলা প্রান্তর। কেমন যেনো হাতছানি দিয়ে ডাকে।

image

মেলা ঘাট পাড় হয়ে ভেতরে যাবার অনুমতি সংগ্রহের ভিড়

image

মেলার উদ্বোধনী পর্বে প্রাক্তনরা পতাকা উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন

image

পতাকা উত্তোলনের আরেক প্রান্তে

image

গর্বিত প্রাক্তনদের সাথে আমি, নিচে বসে

********************************
Wadud
আব্দুল ওয়াদুদ
রাজনগরে নার্সের অবহেলা ও অসদাচরণে রোগী মৃত্যু শয্যায়

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নার্সের বিরুদ্ধে রোগীর প্রতি অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রোগীকে রাজনগর থেকে নিয়ে গিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বামী মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার খারপাড়া গ্রামের দিনমজুর নুরুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া বেগম ৩ মাস আগে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
ইমপ্ল্যান্ট নেন। শনিবার (২০ আগষ্ট) সন্ধ্যায় এই পদ্ধতিতে জটিলতা দেখা
দেওয়ায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে
ভর্তি করা হয়। মহিলা বিভাগে কোনো সীট খালি না থাকায় একজন নার্স রাত সাড়ে ৮টার সময় পুরুষ বিভাগের একটি খালি সীট বরাদ্দ দিয়ে রোগীর শরীরে স্যালাইন দেয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই নার্সের দায়িত্ব শেষে রাত ১০ টার দিকে স্যালাইন চলা অবস্থায় নতুন দায়িত্ব পাওয়া নার্স নাজমা বেগম এসে, কে তাকে পুরুষ বিভাগে সীট দিয়েছে তা রোগী সুফিয়া বেগমের কাছে জানতে চান। আগের দায়িত্বরত নার্স সীট দিয়েছেন জানালে নার্স নাজমা বেগম ক্ষুব্দ হয়ে জোর করে রোগীর শরীর থেকে স্যালাইনের সূঁচ খুলে নেন। এতে সূঁচ গাঁথা স্থান দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে। পাশের সীটের রোগীরা এরকম আচরণ করার প্রতিবাদ করলেও তাতে কোনো ফল হয়নি। এসময় নার্স নাজমা বেগম ক্ষুব্দ হয়ে রোগীর স্বামীকে, বেশী কথা বললে হাসপাতাল থেকে বের করে দিবেন বলে ধমক দেন। এদিকে সারারাত রোগীর প্রচুর রক্ত ক্ষরণে দূর্বল হয়ে পরলে রবিবার সকালে ডা. আমজাদ হোসেন রোগীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
রোগীর স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, নার্স নাজমা বেগমের অবহেলা ও অসধাচরণের ফলে তার স্ত্রী মৃত্যুশয্যায় জীবন নিয়ে লড়াই করছে। তিনি বলেন, বারবার তাকে রক্ত বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি আমার সাথেও দূর্ব্যবহার করেন।

অভিযুক্ত নার্স নাজমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীর স্যালাইন শেষ হওয়ায় সূঁচ খুলে নিয়েছিলাম। তার সাথে কোনো দূর্ব্যবহার বা অবহেলা করা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আমজাদ হোসেন বলেন, রোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

********************************

লন্ডনে বি বি চৌধুরীর নাগরিক শোকসভা
IMG_8413প্রতিকৃতি: ডাঃ বেনু ভূষণ চৌধুরী। একেছেন- সামাদ।
মুক্তকথা: বুধবার ২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩ বাংলা: ৮ই জুন ২০১৬ সাল।
******************************

মানুষ দেখে দেখেই শিখে

IMG_6135

শিশুদের সব কাজই নান্দনিক। আনন্দদায়কতো বটেই। দুনিয়ার কোন মানুষই স্বর্গ-নরক কখনও দেখেনি আর কোনদিন দেখার বিষয়ও নয়। তবে শিশুকর্মে মানবকূল কল্পিত স্বর্গের সেই আভা আস্বাদন করে। শিশুর হাসি সে তো অতুলনীয়, শিশুর কাঁদা ও মোহনীয়, মায়াবী এক আবেশে মানব মনে স্বর্গীয় সে অনুভুতি এনে দেয়। তার মাঝে এমন কিছু কিছু কাজ আছে যা সকল নান্দনিকতাকেও ছাড়িয়ে যায়। মাত্র ৫মাস বয়সের এমন একটি শিশুকে দেখুন, কি যেনো অনুশীলন করছে সে? সৃষ্টিতে মানুষের কাছে এর চেয়ে স্বর্গীয় অনুভুতি আর কিছু নেই বলেই বলতে হয়। এ এক ভাষাহীন মোহনীয় আনন্দ যা ভূবনে অতূলনীয়। পরক করুন শিশুটিকে, এখন থেকেই তার চেষ্টার শুরু, সে কথা বলতে চায়। দেখুন জীবনের শুরুটা।
*********************************

মৌলভীবাজারের শেরপুর ফেরিঘাট

সত্তুরের দশক পর্যন্ত এই ছিল শেরপুর ফেরিঘাট।
imageফেরির ছবি(ফেইচবুক থেকে গৃহীত)

September 2016
M T W T F S S
« Aug    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930